যুদ্ধের ফেরিওয়ালা
- আজিজুল হাকিম
না আকাশ, না মাটি, না সাগর
যুদ্ধের বীজ সুপ্ত থাকে
মানুষের বিশ্বাসের ভেতর।
সে হল যুদ্ধের ফেরিওয়ালা।
দেখ, ঠিক মানুষের মতোই —
কিন্তু মানুষ নয়।
তার চোখে করুণার দীপ্তি,
কিন্তু সেই আলো
আসলে দাবাগ্নির সংকেত।
কণ্ঠে তার মুক্তির গান,
তবুও সে গান মুক্তির নয়—
অদৃশ্য শিকলে বাঁধা
নতুন দাসত্বের মন্ত্র।
ইতিহাসের দিগন্তে চোখ মেলে দেখ—
মানুষের মুক্তির বার্তা বাহকেরাই
শক্ত করে বেঁধে দিয়েছে মানুষের বিবেক।
সে গড়েছে সমতার মন্দির
পরমাণু-ঝোড়ো গানে
আর সেই মন্দিরের ভেতরে
অসমতার নগ্ন মূর্তি
খেলা করে রক্তের সাগরে।
সে তোমাকে ভালোবাসার গান শোনায়,
কিন্তু হৃদয়ের লেন্স দিয়ে দেখ —
কত ঘৃণ্য, কুটিল বর্বরতা
ওর চোখে ফুটে ওঠে!
ও তোমাকে নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি দেয়
আর সেই সুযোগে
তোমার নরম জমিন বুকে
প্রথিত করে স্বৈরাচারী শিকড়;
যা উপড়ে ফেলতে গেলে
বুকের উপত্যকায় ফোটাতে হয় রক্তের স্ফুলিঙ্গ
আর না উপড়ালেও আমৃত্যু মরু-যন্ত্রণা।
সে যখন শান্তির কবিতা পড়ে
তার বুকের ভেতরে
একটি আগ্নেয়গিরি নিঃশব্দে জেগে ওঠে—
অশান্তির ফুটন্ত লাভা
ধীরে ধীরে জমতে থাকে সেখানে।
মনে রেখ, সে যুদ্ধের ফেরিওয়ালা—
যুদ্ধই তার পসরা,
রক্তই তার মুদ্রা,
ভয়ই তার বাজার।
সে শোনায় তাওরাতের শ্লোক,
ইঞ্জিলের বাণী,
কখনো কোরআনের আয়াত—
আর বলে, “মসীহা আসার এখনই তো সময়!”
কিন্তু প্রশ্ন জাগে—
ওই মসীহা কার?
কোন আকাশের দরজা ভেঙে
তিনি নামবেন পৃথিবীতে?
নাকি তার আগমণ বার্তা
আর একটি যুদ্ধের দীর্ঘ ছায়া;
যার নাম দেওয়া হয়েছে 'পবিত্র যুদ্ধ'?
তাই তো তার আসার গল্প উঠলেই
শুরু হয় রক্তের নাচ,
তরবারির ঝনঝন শব্দে
জেগে ওঠে যুদ্ধের বাজনা।
আগুনের ডানা মেলে
আকাশ দখল করে ধ্বংসের পাখি।
ও মসীহা!
তোমার নামেই তো
যত পবিত্র যুদ্ধের নির্লজ্জ উৎসব।
যুদ্ধের আকাশে
শকুনেরা বৃত্ত এঁকে উড়ে—
কারণ তারা জানে,
মানুষ যখন ঈশ্বরের নামে যুদ্ধ করে
তখন পৃথিবীতে
সবচেয়ে বেশি মাংস উৎপাদিত হয়।
মানুষই তার ক্ষমতা দখলের গল্প লিখেছে ঈশ্বরের নামে—
আর সেই গল্পের নাম দিয়েছে
'পবিত্র শ্লোক'।
কিন্তু সেই শ্লোকের হাত ধরেই
মৃত্যুর দিকে হেঁটে যাচ্ছে মানুষ।
আজও!
যার নামে এই যুদ্ধ—
সে কি কখনো
এমন যুদ্ধ চেয়েছে?
সে কি পাঠিয়েছে
এমন কোনো বাণী—
যেখানে মানুষের চেয়ে
আগুন বড় হয়ে ওঠে?
নাকি মানুষই
তার নিজের যুদ্ধকে
ঈশ্বরের নামে লিখে দিয়েছে
একটি পবিত্র শ্লোকের মতো?
সেই যুদ্ধেই
আগুনের চুম্বনে পুড়ে যায়
মায়ের মুখ, সন্তানের কপাল, বাবার দেহ।
মরুভূমিতে পড়ে আছে
গোলাপের একটি ক্ষতবিক্ষত ডাল।
এখনও কি লাগানোর সময় হয়নি?
আর কত বুকের রক্তে ভিজলে
এ মাটি উর্বর হবে, বলো?
রচনা: ০৬/০৩/২০২৬

Sir ami Ishqke Habib apnar kobita porlam notton kobita bhalo laglo
ReplyDeleteSir ami Ishqke Habib apnar kobita porlam notton kobita bhalo laglo
ReplyDelete