i নীরবতার ব্যাকরণ / সেখ মাইনুল হক

নীরবতার ব্যাকরণ / সেখ মাইনুল হক

নীরবতার ব্যাকরণ
সেখ মাইনুল হক 

একসময় ভাষা সত্যে বিশ্বাস করত — 
তারও আগে,
যখন শব্দ ভেঙে পড়েনি স্লোগানে,
মানচিত্রের রেখা হয়ে ওঠেনি বিভাজনের শিরা,
নামগুলো তখনো শেখেনি
একে অপরকে অস্বীকার করতে।

এখন আমরা কথা বলি — 
অভ্যাসে গড়া খণ্ড বাক্যে,
পরিমিত দুঃখে,
পরিমাপ করা সহানুভূতিতে,
এবং এমন ক্ষণস্থায়ী ক্ষোভে
যার আয়ু হাড়ে পৌঁছানোর আগেই শেষ হয়ে যায়।

বলুন তো — 
কবে থেকে নীরবতাই
একমাত্র সত্য বাক্য হয়ে উঠল ?

আমি দেখেছি মানুষ
বিশ্বাসকে অস্ত্রের মতো বহন করে,
ইতিহাস লেখা হয় ভয়ের কালিতে,
পরিচয়গুলো ক্রমে ধারালো হয়ে ওঠে — 
রক্ত কেটে দেয়,
স্মৃতি কেটে দেয়,
সহাবস্থানের ভঙ্গুর স্থাপত্য ভেঙে ফেলে।

তবুও — 
ধ্বংসস্তূপের অন্তর্গত নীরবতায়
কোথাও একটি শিশু
“বাড়ি” শব্দটি উচ্চারণ করতে শেখে — 
না জেনেই
একদিন সেই শব্দই
তাকে প্রত্যাখ্যান করবে।

মুছে ফেলা শুরু হয় এভাবেই — 
আগুন দিয়ে নয়,
বরং একটি শব্দ
নিঃশব্দে মুছে দিয়ে
অস্তিত্বের নিবন্ধন থেকে।

আর প্রতিরোধ টিকে থাকে — 
এক কাঁপা কণ্ঠে,
যে নিজের নাম ভুলতে অস্বীকার করে।

তাই আমি লিখি — 
শোনানোর জন্য নয়,
টিকে থাকার জন্য।

কারণ এই পৃথিবীতে,
যেখানে অস্তিত্বও সম্পাদিত হয়,
সেখানে বেঁচে থাকাটাই
শেষ কবিতা।

Post a Comment

Previous Post Next Post