i প্রেম ও বিরহের কবিতাগুচ্ছ

প্রেম ও বিরহের কবিতাগুচ্ছ

 

প্রেম ও বিরহের কবিতাগুচ্ছ  

কলমে: আজিজুল হাকিম 


(এক)

যখন তুমি 

যখন তুমি ইচ্ছে ডানার গান ধর,
আমি তখন সুখ আকাশে জাল বুনি। 
যখন তুমি ফড়িং পাখায় রঙ উড়াও,
তখন আমি নীল দরিয়ায় পাল তুলি। 
যখন তোমার ঠোঁটের পাড়ে রোদের হাসি, 
তখন আমার কাব্যধারায় চরম গতি। 
যখন তোমার ঝিনুক চোখে শিশির হাসি,  
তখন আমি মেঘের ডানায় ছড়াই মতি। 
যখন তুমি ফুলের বুকে স্বপ্ন আঁকো, 
তখন আমি রাখল বালক বাজাই বাঁশি। 
যখন তুমি ঝড়ের রাতে প্রলয় শিখা, 
তখন আমি বাগানে আনি সবুজ হাসি। 
যখন তুমি নূপুর বাজাও বুকের ভেতর, 
এই জীবনে মরণ ছিল যাই ভুলি। 
এই লীলাতেই যাচ্ছে জীবন সুখের ভেতর,  
সুখের ছোঁয়ায় যাচ্ছে আমার দিনগুলি।
 
রচনা: ০২/০৭/২০২২ সন্ধ্যারাত 
স্থান: বস্তির মাঠ 

*****


(দুই)

একটি চিঠির অপেক্ষায়


আজ কিছু নেই, সমাধিস্থ হয়ে গেছে প্রায় সবই
সময়ের কথা সময়েই বয়ে নিয়ে গেছে কবে
তবুও তো শেষ হয়ে যায়নি কো সব 
পথে পড়ে থাকা মাঠের শস্যদানার মতো 
শীতের পেলব রোদ্দুরে ঝলসে উঠে 
আমাদের অপরিপক্ক প্রেম, 
আমাদের ভালোবাসা।
 
আজও জ্যোতির্ময়ী স্মৃতিরা লালিত হয় 
হৃদয়ের নাক্ষত্রিক বাগিচায় 
স্মৃতির ইথারে ইথারে পূবালী বিদ্যুৎরাশী
উদ্ভাসিত হয় তোমার নৌকোর মতো চোখ 
শিশির স্নাত গোলাপের পাপড়ির মতো 
হেসে উঠে একজোড়া ঠোঁট। 
তোমারও কি ইথারের সাথে লিংক আছে? 
আজও কি প্রতিধ্বনিত হয় 
সারসের ডানা ঝাপটানোর শব্দ? 
সন্ধ্যারাগে প্রকম্পিত নদীর বুকে 
নেচে চলে স্বর্ণালী ঢেউ?
কল্পনার ক্যানভাসে আঁকা প্রেমের প্রাসাদ
হাতের মুঠোয় হাত ছুঁয়ে ছিল আকাশ - 
সে সব কথা কি গেছ ভুলে? 
  
না অন্যের আকাশে রঙিন জ্যোৎস্না স্নানে 
মত্ত হয়ে আছো?
এখনো তো আঁধার বুকে জ্বলে ওঠে স্ফুলিঙ্গ প্রদীপ
সাহারা বুকে আজও ঘুরে ফিরে আসে  
গোলাপের  সুগন্ধি বাতাস, 
রাতের ঘন অরণ্যে অনুরণিত হয় আমাদের নিঃশ্বাস
নির্ভেজাল নিস্তব্ধ সঙ্গীত। 
লীনার চোখে তোমার চোখের প্রতিধ্বনি শুনি রোজ। 
আজও তো বসে আছি উত্তাল সাগর পাড়ে
তোমার চিঠির অপেক্ষায় 
কেবল বসন্ত ভেজা একটি চিঠি
তোমার হৃদয় নিংড়ানো ভালোবাসা
তোমার ঠোঁটের আলপনা আঁকা প্রেম 
কোটি ফুলের পাপড়িতে মোড়া থাকবে 
এক মৃত্যুহীন অভিলাষ। 

         রচনা: ২৭/০৬/৩০২২


(তিন)

ও আর অন্ধকার


ওকে ছুঁয়ে দেখো, ওকে পাবে না তুমি 
আর অন্ধকারকে ছুঁয়ে দেখো, 
সেখানেই ওকে পাবে । 

না, না, না..... 
ওকে দিনের আলোতে এনো না, 
এখানে ও মৃত সঞ্জীবনী;
প্রভাত আলোর স্পর্শেই তুষার গলে যাবে
ও চুঁয়ে পড়বে অন্ধকার গুহায় ।

তুমি তাকে স্পর্শ করে দেখো, 
তোমার চারিপাশে অনন্ত অন্ধকার 
ছুটে আসবে সুগভীর বেদনায় । 

তুমি সঙ্গীতকে স্পর্শ করো, ওকে পাবে
তুমি শিল্পের জগতে বিচরণ করো, ওকে পাবে,
তুমি কল্পনার আকাশে ডানা মেলে দাও, ওকে পাবে,
তুমি কাব্যিক নদীতে পাল তুলে দাও, ওকে পাবে । 

কিন্তু ভুল করে......
না, না, না....... 
তোমার জীবনদীপে নয় !


(চার)

ভালোবাসার খোঁজ 

ছেলেটি ভালোবাসার খোঁজে পথে নামলো
গ্রামের আল পথ ধরে শহরের রাজপথ 
পথের ধারে শিউলি জুঁই আর মহুয়ার সুগন্ধ
বাতাসের পাখায় যৌনো চাটনির সুবাস 
ছেলেটি কনফিউজ হয়ে যায় - 
সে কোনটা নেব? 

ছেলেটি ফাগুনের বারান্দার পাশ দিয়ে চলে যাচ্ছে
চৈতালি কটা চ্যাংড়া নিয়ে কালবৈশাখীর গল্পে মত্ত
ভালোবাসাহীন লু ঝড়ের গল্পে মশগুল 
ছেলেটি বলল, ভালোবাসার ঠিকানা জানো?
চৈতালি হাসল, ছেনাল জীবনের আবার ভালোবাসা! 

ছেলেটি পথে পথে ঘুরতে ঘুরতে 
এক সময় রাজপথে গিয়ে দাঁড়াল
সেখানেও ভালোবাসা নেই 
দেখল পপি গাছের চারা রোপণে ব্যস্ত 
ছেলেটি বলল, এখানে কোথাও ভালোবাসা আছে?
লোকগুলি হো হো করে হেসে উঠলো
বলল, ওসব আবার কি?
আফিম নেশায় মত্ত হয়ে অস্ত্র ধরেছি। 

অথচ ওকে অনেকেই ভালোবাসার গল্প শুনিয়েছিল
সমতার গল্প
মানবিকতার গল্প
সব পথের পথিককে শ্রদ্ধা করার গল্প 
ভালোবাসার পেলব বুকের স্বপ্ন দেখিয়েছিল
প্রতিশ্রুতি ছিল অন্যের ঘামের গন্ধ গায়ে না মাখার
কিন্তু হায়! আজ তারা কোথায়? 

ছেলেটি হতাশ হয়ে চলে যাচ্ছে
এক সময় সে লাল পথে নামল
দুই পাড়ে সবুজ ঘাসগুলি ভালোবাসার গল্পে বিভোর  
আরও খানিকটা পথ সে হেঁটে গেল  
দুই ধারে বড় বড় কৃষ্ণচূড়ার গাছ 
ঝাঁঝালো রোদের চোখে চোখ রেখে 
রক্তিম শিহরণে কেঁপে যাচ্ছে কৃষ্ণচূড়া বুক।


(পাঁচ)

নষ্ট জীবনের অভিলাষ 


যুবতীর চোখের মতো দীঘি
আমাকে ইশারা করে 
ছোট্ট একটা ভেলা বাঁধা আছে পাড়ে

এপারে দাঁড়িয়ে কটি গাছ
দুপুর আগুনে পুড়ে
পাতার আড়ালে এক পাখি ডেকে যায় বিচিত্র সুরে

ওদিকে কুমতি নারী 
বাঁধে আমায় শাড়ির আঁচলে
ওর চোখের জাদুতে আজও আগুন আড়াল করে। 

বাসন্তিক বারান্দায় দাঁড়িয়ে 
বুঝিনি গ্রীষ্ম আগুনে নাচে 
নষ্ট হয়েছে জীবনের শ্রম সোনার হরিণের পিছে। 

আমি তো ভিজে যেতে চাই 
নির্মল আনন্দের ফোয়ারায় 
কচুরিপানা জীবন অনন্ত স্রোতে যদি ভেসে যায়! 

আমি ছুঁবনাকো কোনোদিন
ফেলে আসা শিশির মুক্তোগুলি
ছেড়েছি ঘাটের ভেলা জীবনের দুয়ার খুলি' 

লাবণ্যময়ী, হে নিসর্গ দেবী
তোমার নান্দনিক ঝর্ণাধারায়
অমলিন কর আমার কুলোসিত এ হৃদয়। 

রচনা: ০৪/১১/২০২২
স্থান: দীঘা 

Post a Comment

Previous Post Next Post