জীবনের মাঠ-ঘাট
— আজিজুল হাকিম
সূর্য পশ্চিম দিগন্তে হারাতে শুরু করেছে। এদিকে তার শেষ আলোর মায়াবী স্পন্দনে আশপাশের প্রকৃতি এক নতুন রূপে সুসজ্জিত হতে চলেছে। দূরের গ্রামের মাথার উপর দিয়ে দেখা যাচ্ছে, সমস্ত দিগন্তবলয় জুড়ে এক অতি আশ্চর্য-সুন্দর এবং মাধুর্যপূর্ণ কিরণ প্রজ্বলিত হচ্ছে। এক স্নিগ্ধ হাসির ঝংকারে মাঠের পাশে বিস্তৃত নদীর বুকে সেই বর্ণছটা সুন্দর শিহরণ তুলে উদ্বেলিত হচ্ছে। মনে হচ্ছে হাজারো রঙের সোহাগী চাবুকের আঘাতে কে যেন সমস্ত নদীর বুক এবং তার ঢেউয়ের মাথাগুলি রাঙিয়ে তুলছে।
এমন সময় একটি লোক নদীর ধারে পড়ে থাকা ছোট্ট নৌকায় চেপে বসলো।
সেই ভোর বেলায়, যখন সূর্য পূর্ব দিগন্তে তার হাসি ছড়িয়ে দিচ্ছিল; ঠিক তখন এই পানশিতে চড়ে সে এ মাঠে এসেছিল। তারপর সারাদিন মাঠের বুকে তার খেলাধুলা আর জীবন সংসার।
ঠিক দুপুরে প্রথমে একটি যুবতী এলো ওর সঙ্গে ভাব হল। তারপর তাদের হাত ধরে চলে এলো সন্তান-সন্ততি। আরো অনেক আত্মীয়-স্বজন আর প্রতিবেশী। ওরা কেউ এলো আবার কেউ সেখান থেকে চলেও গেল।
এই মাঠেই তার কত লোকের সঙ্গে গল্প হল, খুনসুটি হল। তাদের মধ্যে কেউ তার সঙ্গে বেশিক্ষণ সময় কাটাল, আবার কেউ খুব অল্প সময়।
এখন সন্ধ্যা নেমে এসেছে বলেই তার চলে যাওয়ার পালা। ঘাটে বাঁধা পানসিতে সে চেপে বসল। ঘাটে জড়ো হয়েছে কিছু মানুষ। তাদের শোকসভা এই সময় ভীষণ বেমানান। তবুও।
কিছুক্ষণের মধ্যেই সেই পানসি নদীর বুকে ঢেউ ভাঙতে ভাঙতে চলে যাচ্ছে।
এখন সে অনেক দূরে চলে গেছে। আস্তে আস্তে আঁধারে বুক চিরে অন্ধকার গহ্বরে অদৃশ্য হয়ে যাচ্ছে।
রচনা: ১৩/১১/২০২৫
স্থান: নীলমন চর।
Tags:
সাহিত্য-অণুগল্প
