আমার ঠিকানা
— আজিজুল হাকিম
এই ঘাটে কেউ নেই
কেবল আমারই একাকিত্বের ভিড়।
সামনে জল-কুমারী নেচে চলে
সীমা-হারা পথ ধরে
এই নির্জন মাঠে,
আকাশ ছুঁয়ে যায়
সেই বালিকার কম্পমান ঠোঁট
দিগন্তরেখায়
আবার এপারেও ফিরে আসে
আছড়ে পড়ে মাটির ভালবাসায়।
এই মাটি,
এই ঢেউ,
এই বাতাস,
এই আকাশ
আর এই জল-রূপসী বালিকা —
এদেরও কি কোন ভাষা আছে?
এরাও কি গল্প করে কোনদিন
নিভৃত অবকাশে?
রোজই তো শুনি এ ভাষা
তবু বোঝা হয় না কেন, কোনদিন?
লেখা হয়েছে কি কোন কালে এ ভাষা
কোন বইয়ের পাতায়?
এ কোন অ্যালগরিদমের খেলা?
বাতাসের ফুঁয়ে উৎফুল্লিত জলের স্পন্দন।
কেবল আমি এখানে একা।
সবাই ফিরে গেছে নিজের বাসায়
এক হৃদয় বিস্ময় নিয়ে
আর প্রশান্তির উন্মাদনায়
হয়তো আমি এসেছি ফিরে
আমার ঠিকানায়।
আজ ওরা কথা বলে কার সাথে?
সে কি আমার হৃদয়ের সাথে?
না আমাকে একাকী দেখে
হেসে ওঠে নন্দিত ভালোবাসায়?
এখানে আমি কার জন্য দাঁড়িয়ে?
কার অপেক্ষায়?
আমি তো ফিরে যেতে চাই
আমার ঠিকানায়
আমি কি জানি,
ঠিক আমার ঠিকানা কোথায়?
বাতাসের ফুঁয়ে উৎফুল্লিত জলের স্পন্দন।
কেবল আমি এখানে একা।
সবাই ফিরে গেছে নিজের বাসায়
এক হৃদয় বিস্ময় নিয়ে
আর প্রশান্তির উন্মাদনায়
হয়তো আমি এসেছি ফিরে
আমার ঠিকানায়।
আজ ওরা কথা বলে কার সাথে?
সে কি আমার হৃদয়ের সাথে?
না আমাকে একাকী দেখে
হেসে ওঠে নন্দিত ভালোবাসায়?
এখানে আমি কার জন্য দাঁড়িয়ে?
কার অপেক্ষায়?
আমি তো ফিরে যেতে চাই
আমার ঠিকানায়
আমি কি জানি,
ঠিক আমার ঠিকানা কোথায়?
সূর্য চলে যায় তার পথ ধরে
কঠিন নিয়ম মেনে।
আকাশের লালিমা ফুঁড়ে
ধীরে ধীরে এগিয়ে আসে
একটি ছোট্ট নৌকা
সেই নৌকায় বসে আছে
এক আঁধার ভাঙ্গা রূপসী মুখ
যে মুখ দেখেনি কো পৃথিবীর কোন
মানুষ, কোন কালে।
সে মুখে অম্লান প্রসন্ন আলো জ্বলে।
কঠিন নিয়ম মেনে।
আকাশের লালিমা ফুঁড়ে
ধীরে ধীরে এগিয়ে আসে
একটি ছোট্ট নৌকা
সেই নৌকায় বসে আছে
এক আঁধার ভাঙ্গা রূপসী মুখ
যে মুখ দেখেনি কো পৃথিবীর কোন
মানুষ, কোন কালে।
সে মুখে অম্লান প্রসন্ন আলো জ্বলে।
এই নৌকায় কেবল সে একা —
মুখে প্রসন্নতার রেখা।
সে হাত নেড়ে চলে গেল
আমার সামনে দিয়ে
ভিড়ল না তার নৌকা এই ঘাটে।
মুখে প্রসন্নতার রেখা।
সে হাত নেড়ে চলে গেল
আমার সামনে দিয়ে
ভিড়ল না তার নৌকা এই ঘাটে।
ফিরে যায় সারি সারি
সারস আর পানকৌড়ির দল
ওরাও ঢেউ তুলে নীল জ্যোৎস্নায়
নাচে বাতাসের ঠোঁটে।
সারস আর পানকৌড়ির দল
ওরাও ঢেউ তুলে নীল জ্যোৎস্নায়
নাচে বাতাসের ঠোঁটে।
এখন কথা বলে যাচ্ছে
কেবল আঁধার বাতাস
আর কল্লোলিত জল
ভয়ংকর সুন্দর ভাষায়।
কেবল আঁধার বাতাস
আর কল্লোলিত জল
ভয়ংকর সুন্দর ভাষায়।
কত সময় চলে গেছে
আঁধারের বুক ছুঁয়ে
কে, কোন অদৃশ্য কোডিংয়ে
লিখেছে তরঙ্গমালা
আর বাতাসের গান?
আঁধারের বুক ছুঁয়ে
কে, কোন অদৃশ্য কোডিংয়ে
লিখেছে তরঙ্গমালা
আর বাতাসের গান?
আবার ফিরে এল সেই জলপরী কন্যা
ভিড়ল নৌকা এই ঘাটে
বাড়িয়ে দিল হাত আমার দিকে
বলল, এস, এই নৌকায়।
মিশকালো আঁধারের বুকে
একমুখ প্রদীপের আলো,
এ কে?
ভিড়ল নৌকা এই ঘাটে
বাড়িয়ে দিল হাত আমার দিকে
বলল, এস, এই নৌকায়।
মিশকালো আঁধারের বুকে
একমুখ প্রদীপের আলো,
এ কে?
রচনা: ১৫/০৯/২০২৬
স্থান: নীলমন চর
