চাঁদের আলোয়
লেখা একটি রাত:
একটি বাস্তব
প্রেমের ইতিহাস
M A H A B B A T
উৎসর্গ: তোমাকে...
যে তুমি আমার জীবনের অন্ধকার সময়ে অদৃশ্য রশ্মি হয়ে এসেছে!
যে তুমি আমার সাফল্যের সময় নয়, বরং আমার সংগ্রাম এর
সময় আমাকে শক্তি যোগাচ্ছ!
এই গল্পের প্রতিটি শব্দ, প্রতিটি নীরবতা, প্রতিটি অশ্রুবিন্দু—
সেই চাঁদের আলোয় কাটানো আমাদের একটি রাতের স্মৃতিকে উৎসর্গ করলাম।
হয়তো একদিন পৃথিবী আমাদের গল্প ভুলে যাবে,
কিন্তু আমি চাই, এই লেখাটা সাক্ষী হয়ে থাকুক—
একটা সময়, দুটি মানুষ, আর এমন
এক ভালোবাসার,
যার সবচেয়ে বড় পরিচয় ছিল বিশ্বাস।
ভূমিকা
কিছু রাতের কোনো তারিখ থাকে না। ক্যালেন্ডার সেই রাতকে মনে রাখে না, ঘড়িও না। কিন্তু হৃদয় রাখে। অনেক বছর পরেও যখন জীবনের সমস্ত সাফল্য,
ব্যর্থতা, করতালি আর ক্লান্তি একসঙ্গে এসে
মানুষকে ঘিরে ধরে, তখন সে ফিরে যায় সেই একটি রাতেই—যেখানে পৃথিবী খুব বড় ছিল না; ছিল শুধু দুটো মানুষ,
কিছু স্বপ্ন, আর একটুকরো চাঁদের আলো।
আমি জানি না, এই গল্পের শেষ কোথায়।
হয়তো শেষটা এখনও লেখা হয়নি।
হয়তো আজও সেই কাঁচা রাস্তার ওপর আমাদের দুজনের পায়ের শব্দ ভেসে
বেড়ায়।
হয়তো আজও সেই পুরোনো বটগাছটা জানে, এক রাতে দুজন সাধারণ
ছেলে-মেয়ে সেখানে দাঁড়িয়ে ভবিষ্যৎকে ভয় পেয়েছিল, তবু
একে অপরকে ছাড়েনি।
এটা কোনো রূপকথা নয়। এখানে রাজপুত্র নেই, রাজকন্যাও নেই।
এখানে আছে একজন একুশ বছরের ছেলে—Ihan। দিনের আলোয় সে
একজন ছাত্র, সন্ধ্যায় ফিজিক্স পড়ানো শিক্ষক, আর গভীর রাতে নিজের স্বপ্নের সঙ্গে লড়াই করা এক মানুষ।
আর আছে বিশ বছরের একটি মেয়ে—Ayat। যে ভালোবাসতে জানত
নিঃশব্দে।
আমি আয়াত কে খুশি বলেও সম্মোধন করি।
প্রশ্ন জাগছে-কেন?
সেটা না হয় গল্প পড়েই অনুধাবন করুন!
অধ্যায় এক
দেখা হবেই
সকালটা অন্য দিনের মতোই শুরু হয়েছিল।
কলেজ, নোটস, পড়াশোনা,
টিউশনের সময় মেলানো—সবকিছু আগের মতো।
কিন্তু ভেতরে কোথাও একটা অস্থিরতা ছিল।
সারাদিন একবারও আয়াতের মুখ দেখা হয়নি।
মোবাইলের পর্দায় তার নাম জ্বলছিল, কিন্তু সেই নামের ওপাশে
যে মুখটা ছিল, তাকে ছুঁতে পারছিলাম না।
সন্ধ্যায় টিউশন শেষ করে বাইকের পাশে দাঁড়িয়ে অনেকক্ষণ চুপ করে
ছিলাম।
হঠাৎ ফোনটা কেঁপে উঠল।
আয়াত।
আমি রিসিভ করতেই ওপাশে কয়েক সেকেন্ড কোনো শব্দ নেই।
তারপর খুব আস্তে...
—
"আজও কি দেখা হবে না?"
আমি উত্তর দিতে পারছিলাম না।
কারণ উত্তরটা 'না' হলে দুজনেরই কষ্ট
হবে, আর 'হ্যাঁ' হলে
ঝুঁকি।
ওদের বাড়ি খুব কঠোর।
আমাদের বাড়িতেও অজস্র প্রশ্ন।
দুজনেই জানতাম—ধরা পড়লে শুধু বকুনি নয়, বিশ্বাসও হারাতে হতে পারে। আবার ভবিষ্যত ও নষ্ট হতে পারে!
তবু সেদিন কে আগে বলেছিল, আজ আর মনে নেই।
হয়তো আমি।
হয়তো আয়াত।
শুধু মনে আছে, শেষ কথাটা ছিল—
—
"যা হবে দেখা যাবে... আজ দেখা হবেই।"
ফোনটা কেটে যাওয়ার পর বুঝলাম, সিদ্ধান্ত মানুষ সব সময়
যুক্তি দিয়ে নেয় না।
কখনো কখনো ভালোবাসাও সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলে।
রাত বাড়তে লাগল।
আমি বাইকের চাবিটা হাতে নিয়ে অনেকক্ষণ তাকিয়ে ছিলাম।
মনে হচ্ছিল, আজকের এই পথটা শুধু রাস্তা নয়; এটা যেন আমার সাহসের পরীক্ষা।
ইঞ্জিন স্টার্ট হতেই গ্রামের রাতের নিস্তব্ধতা একটু কেঁপে উঠল।
চাঁদ তখন অনেক ওপরে।
সামনের রাস্তা ফাঁকা।
দু'পাশে অন্ধকার।
আমি শুধু এগিয়ে চললাম।
কারণ আজ কেউ আমার অপেক্ষায় ছিল।
এবং পৃথিবীর সমস্ত দূরত্বের চেয়ে বড় হয়ে উঠেছিল সেই অপেক্ষা।
অধ্যায় দুই
যে পথে শুধু
অপেক্ষা ছিল
রাত তখন সাড়ে নয়টা ছুঁইছুঁই।
গ্রামের রাস্তাগুলো একে একে মানুষশূন্য হয়ে যাচ্ছে। দূরের কোনো বাড়ির
উঠোনে রাতের শেষ রান্নার ধোঁয়া উঠছে। কোথাও মৃদু ভেসে আসছে আজানের পরের নীরবতা, কোথাও বা ঝিঁঝিঁ পোকার একটানা ডাক।
আমি—ইহান—বাইকের গতি খুব বেশি
বাড়াইনি।
অদ্ভুত একটা ভয় বুকের ভেতর ঘুরছিল। পুলিশের ভয় নয়, মানুষের ভয়ও নয়। ভয় ছিল—আজকের এই দেখা যদি আমাদের
ভবিষ্যতের জন্য কোনো বিপদ ডেকে আনে?
তবু মনে হচ্ছিল, কিছু কিছু মুহূর্ত মানুষের জীবনে একবারই
আসে। সেদিন যদি সাহস না করি, হয়তো সারাজীবন আফসোস থাকবে।
রাস্তার দু'পাশে ধানের ক্ষেত। চাঁদের আলো নেমে এসে
সেগুলোকে রুপোর মতো ঝলমলে করে তুলেছে। বাতাসে কাঁচা ধানের গন্ধ।
আমি বারবার মোবাইলের দিকে তাকাচ্ছিলাম।
একটা ছোট্ট মেসেজ এল—
"আমি বেরিয়েছি। সাবধানে এসো।"
মেসেজটা পড়ে অজান্তেই হেসে ফেললাম।
এই মেয়েটা নিজের কথা কম ভাবে। আমার কথা বেশি ভাবে।
কয়েক মিনিট পর আমি ওদের বাড়ির একটু দূরে বাইক থামালাম।
ইঞ্জিন বন্ধ হতেই চারদিকে এমন নীরবতা নেমে এল, যেন পুরো পৃথিবী নিঃশ্বাস আটকে আছে।
আমি শুধু অপেক্ষা করছিলাম।
সময় যেন হঠাৎ ধীরে চলতে শুরু করল।
এক মিনিট।
দুই মিনিট।
পাঁচ মিনিট।
তারপর...
অন্ধকার গলির ভেতর থেকে ধীরে ধীরে একটা ছায়া বেরিয়ে এল।
চাঁদের আলো মুখে পড়তেই আমি তাকে চিনে ফেললাম।
আয়াত।
সাধারণ একটা সালোয়ার-কামিজ, খোলা চুলের কয়েকটা গোছা
বাতাসে উড়ছে। মুখে কোনো সাজ নেই। কিন্তু সেই মুহূর্তে আমার মনে হয়েছিল, পৃথিবীর সমস্ত সৌন্দর্য যেন একসঙ্গে এসে ওর চোখ দুটোর মধ্যে আশ্রয়
নিয়েছে।
ও খুব আস্তে এসে আমার সামনে দাঁড়াল।
আমরা দুজনেই কিছু বললাম না।
শুধু একে অপরের দিকে তাকিয়ে রইলাম।
মনে হচ্ছিল, সারাদিনের না বলা সব কথাই চোখের ভাষায়
বলে ফেলা যায়।
খুশি মৃদু হেসে বলল,
—
"এত ঘেমে গেছ কেন?"
আমি হেসে বললাম,
—
"ভয় করছে।"
—
"কিসের?"
—
"তোমাকে হারানোর।"
খুশি কিছুক্ষণ চুপ করে রইল।
তারপর খুব ধীরে আমার ডান হাতটা নিজের দুই হাতের মধ্যে নিয়ে বলল,
—
"আমি তো এসেছি।"
এই চারটা শব্দের মধ্যে এমন এক নিশ্চিন্ত আশ্রয় ছিল, যা কোনো বড় প্রতিশ্রুতির মধ্যেও পাওয়া যায় না।
আমরা বাইকে উঠলাম।
খুশি খুব আস্তে আমার কাঁধে হাত রাখল।
বাইক আবার চলতে শুরু করল।
আমাদের সামনে ছিল চাঁদের আলোয় ভেজা গ্রামের কাঁচা রাস্তা।
আর পেছনে পড়ে থাকল সমস্ত ভয় আর সমাজ!!!
অধ্যায় তিন
চাঁদের নিচে
দুটি মানুষ
বাইকটা ধীরে ধীরে গ্রামের শেষ প্রান্তে এসে থামল।
সামনে বিশাল একটা দীঘি।
এত বড় যে, প্রথম দেখায় মনে হয়—জল নয়, যেন আকাশেরই একটা অংশ মাটিতে নেমে এসেছে।
চাঁদটা ঠিক মাথার ওপরে ছিল। তার আলো ভেঙে হাজার হাজার টুকরো হয়ে জলের
ওপর ছড়িয়ে পড়েছে। হালকা বাতাস উঠলেই সেই আলো কেঁপে উঠছিল। মনে হচ্ছিল, জল নয়—অসংখ্য স্মৃতি ভেসে আছে।
দূরে কোথাও একটা রাতজাগা পাখি ডেকে উঠল।
তারপর আবার নিস্তব্ধতা।
আমি বাইকটা স্ট্যান্ডে তুলে ইঞ্জিন বন্ধ করলাম।
ইঞ্জিনের শব্দ থেমে যেতেই বুঝলাম, পৃথিবী আসলে কত শান্ত হতে
পারে।
আয়াত আমার পাশে এসে দাঁড়াল।
আমরা পাশাপাশি হাঁটতে হাঁটতে দীঘির সিঁড়িতে বসলাম।
আমাদের মাঝখানে কোনো দূরত্ব ছিল না, অথচ কেউ কথা বলছিলাম না।
কিছু নীরবতা আছে, যেগুলো ভাষার চেয়েও বেশি সত্য।
অনেকক্ষণ পর খুশি খুব আস্তে বলল,
—
"জানো, আমি আজ সারাদিন শুধু এই রাতটার
কথা ভেবেছি।"
আমি তাকালাম।
ওর চোখে চাঁদের আলো পড়েছে।
কিন্তু সেই আলোর ভেতরেও একটা অদ্ভুত ভয় লুকিয়ে ছিল।
—
"যদি কেউ দেখে ফেলত?"
আমি হেসে বললাম,
—
"তাহলে হয়তো অনেক বকুনি খেতে হতো।"
আয়াত ও হেসে ফেলল।
কিন্তু হাসিটা বেশিক্ষণ টিকল না।
হঠাৎ ও আমার দিকে তাকিয়ে বলল— "ইহান..."
—
"হুঁ?"
—
"একটা কথা বলবে?"
—
"বলো।"
ও অনেকক্ষণ চুপ করে রইল।
মনে হচ্ছিল, কথাগুলো বলতে সাহস জোগাড় করছে।
তারপর নিচু গলায় বলল — "কখনো আমাকে ভুল
বুঝো না।"
আমি উত্তর দিলাম না।
ও আবার বলল — "আর... কোনোদিন আমাকে ছেড়ে যেও
না।"
আমি খেয়াল করলাম, শেষ কথাটা বলতে গিয়ে ওর গলাটা কেঁপে
উঠেছে।
আমি ধীরে ধীরে ওর দিকে একটু এগিয়ে বসলাম।
বললাম — "আয়াত, পৃথিবীতে
এমন অনেক কিছু আছে যা একদিন হারিয়ে যায়। টাকা হারায়, সময়
হারায়, বন্ধুত্বও কখনো কখনো দূরে চলে যায়। কিন্তু আমি চাই,
আমাদের বিশ্বাসটা যেন কোনোদিন না হারায়।"
আয়াত আমার চোখের দিকে তাকিয়ে ছিল।
আমি ওর চোখে ভয় দেখছিলাম।
হারিয়ে ফেলার ভয়।
তারপর আমি আয়াতের সামনে হাটু মাটিতে রেখে প্রস্তাবের ভঙ্গিতে বসলাম
তারপর...
আমি খুব আস্তে বললাম,
—
"শোনো..."
তারপর ধীরে ধীরে সেই হিন্দি গানের লাইনগুলো বললাম—
"Tu
meri rooh sa hai...
Tujhko
chhu ke main zinda lagu...
Jab
bhi main mujhko dekho,
Mujhme
bhi main tujhsa lagu...
Tere
hone se hi mera hona hai...
Tujhko
khona jaise mujhko khona hai...
Tu
jo hai... to main hoon..."
গান শেষ হওয়ার পর আমরা কেউ কথা বললাম না।
কারণ কিছু অনুভূতির অনুবাদ হয় না।
আমি শুধু বললাম— "তুমি আছ বলেই আমি-আমি!"
আয়াতের চোখ ভিজে উঠল।
ও খুব আস্তে বলল — "সত্যি?"
আমি মাথা নাড়লাম - "সত্যি...সত্যি...সত্যি।"
ও হঠাৎ আমার খুব কাছে চলে এল।
এক মুহূর্ত...
দুই মুহূর্ত...
তারপর কোনো পূর্বাভাস ছাড়াই ও আমাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরল।
এত শক্ত করে, যেন পৃথিবীর সব ভয় থেকে আমাকে লুকিয়ে
রাখতে চাইছে।
আমি প্রথমে অবাক হয়ে গেলাম।
তারপর বুঝলাম, এই আলিঙ্গন ভালোবাসার চেয়ে বড়। এটা
আশ্রয়।
আমি অনুভব করলাম, ওর কাঁধ কাঁপছে।
ও কাঁদছে।
আমার শার্টের ওপর গরম কয়েক ফোঁটা জল পড়ল।
আমি কিছু বললাম না।
শুধু ওর মাথায় খুব আলতো করে হাত রাখলাম।
সেই মুহূর্তে মনে হচ্ছিল, পৃথিবীর সমস্ত শব্দ
হারিয়ে গেছে।
দীঘির জল চুপ।
চাঁদ চুপ।
আমরাও চুপ।
কিন্তু সেই নীরবতার ভেতরই হয়তো আমাদের জীবনের সবচেয়ে বড় কথোপকথন
হয়ে যাচ্ছিল।
অনেকক্ষণ পর আয়াত খুব আস্তে ফিসফিস করে বলল— "আজ যদি সময়টা থেমে যেত..."
আমি আকাশের দিকে তাকালাম।
তারাগুলো যেন আগের চেয়ে আরও উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে।
কিন্তু আমি জানতাম...
সময় কখনো কারও জন্য থেমে থাকে না।
তবু কিছু মুহূর্ত মানুষ নিজের হৃদয়ের ভেতর চিরকালের জন্য আটকে রাখতে
পারে।
সেদিনের সেই আলিঙ্গন...
আমাদের জীবনে ঠিক তেমনই একটি মুহূর্ত হয়ে রইল।
অধ্যায় চার
ভাঙা বাড়ির
ভেতর, অটুট দুটি স্বপ্ন
দীঘির ধারে কাটানো সময়টা শেষ পর্যন্ত আমাদের কেউই শেষ করতে চাইছিলাম
না।
তবু রাত থেমে থাকেনি।
আমি ঘড়ির দিকে তাকালাম।
সময় এগিয়ে যাচ্ছে।
আয়াত আমার মুখের দিকে তাকিয়ে হেসে বলল— "আজ তুমি
খুব চুপচাপ।"
আমি একটু হেসে উত্তর দিলাম — "যে মুহূর্তগুলো
সারাজীবন মনে রাখতে চাই, সেগুলোতে আমি কম কথা বলি।"
আয়াত কিছু বলল না। শুধু মাথা নিচু করে হাসল।
তারপর আমরা আবার বাইকে উঠলাম।
গ্রামের রাস্তা তখন আরও ফাঁকা।
কাঁচা পথের ওপর শুকনো পাতার শব্দ।
দূরে কোথাও বাঁশঝাড়ে বাতাস ঢুকে সোঁ সোঁ আওয়াজ তুলছে।
চাঁদটা একটু পশ্চিমে নেমে এসেছে।
মাঝে মাঝে মনে হচ্ছিল, আমরা পৃথিবীর কোনো গ্রামের রাস্তা
দিয়ে নয়—কোনো পুরনো স্মৃতির ভেতর দিয়ে যাচ্ছি।
আয়াত খুব আস্তে আমার কাঁধে মাথা রাখল।
আমি বাইকের গতি আরও কমিয়ে দিলাম।
আমাদের কোথাও পৌঁছানোর তাড়া ছিল না।
সেই রাতের প্রতিটি মিনিট যেন একটু বেশি বাঁচতে চাইছিলাম।
রাস্তার একপাশে একটা ভাঙা বাড়ি দেখা গেল।
দেয়ালের প্লাস্টার খসে পড়েছে।
জানালার কাঠ নেই।
ছাদের অর্ধেক ভেঙে গেছে।
বাড়িটার পাশে একটা বহু বছরের পুরনো বটগাছ দাঁড়িয়ে আছে।
গাছটার শিকড় যেন মাটিকে জড়িয়ে ধরে সময়ের গল্প শুনছে।
আমি বাইক থামালাম।
আয়াত অবাক হয়ে বলল— "এখানে?"
আমি হেসে বললাম— "ভয় পাচ্ছ?"
ও মাথা নাড়ল— "তুমি পাশে থাকলে-না।"
এই একটা বাক্য শুনে আমার বুকের ভেতর অদ্ভুত একটা দায়িত্ববোধ জন্ম নিল।
আমি বুঝলাম, ভালোবাসা মানে শুধু কাউকে ভালোবাসি বলা
নয়।
ভালোবাসা মানে—কারও নিরাপত্তার অনুভূতি হয়ে ওঠা।
আমরা ধীরে ধীরে বাড়িটার ভাঙা বারান্দায় উঠে বসলাম।
চারদিকে নিস্তব্ধতা।
শুধু পুরনো কাঠের কোথাও কোথাও কিঞ্চিৎ শব্দ।
মাটির গন্ধে ভরে আছে বাতাস।
হঠাৎ আকাশে বিদ্যুৎ ঝলকে উঠল।
আমি তাকিয়ে বললাম — "মনে হচ্ছে বৃষ্টি হবে।"
আয়াত আকাশের দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসল। — "হলেও
ক্ষতি কী?"
আমি ওর দিকে তাকিয়ে রইলাম।
সত্যিই তো...
কিছু রাত বৃষ্টিতে ভিজলে আরও সুন্দর হয়ে ওঠে।
প্রথম ফোঁটাটা এসে পড়ল ভাঙা উঠোনে।
তারপর দ্বিতীয়টা।
তারপর একসঙ্গে অসংখ্য।
টিনের ভাঙা চালের ওপর বৃষ্টির শব্দ ধীরে ধীরে এক অদ্ভুত সুর তৈরি করল।
আমরা বারান্দার এক কোণে দাঁড়িয়ে রইলাম।
খুশি দু'হাত বাড়িয়ে কয়েক ফোঁটা বৃষ্টির জল ধরল।
তারপর আমার দিকে তাকিয়ে বলল— "ইহান..."
—
"হুঁ?"
—
"আমরা একদিন পারব তো?"
আমি প্রশ্নটা বুঝে গিয়েছিলাম।
ও বিয়ের কথা বলছে না।
ও বলছে—সংগ্রামের শেষ হবে তো?
আমি ধীরে ধীরে বললাম — "একদিন একটা ছোট্ট ঘর
হবে।"
আয়াত হেসে ফেলল।
আমি বললাম— "সেখানে একটা ছোট্ট বুকশেলফ থাকবে।
তোমার বই আর আমার বই পাশাপাশি রাখা থাকবে। থাকবে ফুলের একটি ছোট্ট বাগান, আর দোলনা, ছোট্ট কিন্তু সুন্দর সংসার।"
ও চুপচাপ শুনছিল।
আমি আবার বললাম— "তুমি নিজের পায়ে দাঁড়াবে। আমি
পড়াব। পড়াশোনা চালিয়ে যাব। মানুষ আমাদের পরিচয় মনে রাখবে টাকার জন্য নয়—আমাদের কাজের জন্য।"
খুশির চোখে তখন আর বৃষ্টির জল আর চোখের জল আলাদা করে বোঝা যাচ্ছিল না।
সে খুব আস্তে বলল— "আমার বড় স্বপ্ন কিছু নেই,
ইহান।"
আমি জিজ্ঞেস করলাম— "তাহলে?"
সে আমার হাতটা নিজের হাতে নিয়ে বলল— "তুমি যেন
কোনোদিন ক্লান্ত হয়ে একা না হয়ে পড়ো। আমি শুধু তোমার পাশে থাকতে চাই।"
আমি বুঝলাম, পৃথিবীর সবচেয়ে বড় স্বপ্ন অনেক সময়
সবচেয়ে ছোট বাক্যে লুকিয়ে থাকে।
বাইরে তখনও বৃষ্টি পড়ছে।
ভাঙা বাড়ির দেয়াল বৃষ্টির শব্দে ভিজে উঠছে।
আর আমরা দুজন, ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলতে বলতে, বুঝতেই পারিনি—সেই রাত আমাদের জীবনের ইতিহাস হয়ে
উঠছে।
কোনো ক্যামেরা ছিল না।
কোনো ছবি তোলা হয়নি।
কোনো সাক্ষীও ছিল না।
তবু সেই ভাঙা বাড়ি, সেই বটগাছ আর সেই বৃষ্টি—আজও হয়তো জানে, দুই সাধারণ মানুষ সেদিন কোনো বড়
প্রতিজ্ঞা করেনি।
শুধু একসঙ্গে পথ চলার স্বপ্ন দেখেছিল।।
অধ্যায় পাঁচ
যে আলিঙ্গনের
কোনো শেষ ছিল না
বৃষ্টি থেমে গেছে।
ভাঙা বাড়ির কার্নিশ থেকে এখনও টুপটাপ করে জল পড়ছে। ভেজা মাটির গন্ধে
চারপাশ ভরে গেছে। বাতাসে কেমন একটা শীতলতা, যেন রাত নিজেই ধীরে ধীরে
গভীর হয়ে উঠছে।
আমরা বারান্দা থেকে নেমে এলাম।
পৃথিবী যেন নতুন করে ধুয়ে গেছে।
চাঁদ আবার মেঘের আড়াল থেকে বেরিয়েছে।
আয়াত হাঁটছিল আমার পাশে। ওর ওড়নার এক কোণা বারবার বাতাসে উড়ে এসে
আমার হাত ছুঁয়ে যাচ্ছিল। আমি কিছু বলছিলাম না। ও-ও না।
সেই নীরবতাটাই যেন আমাদের ভাষা হয়ে উঠেছিল।
হঠাৎ আয়াত থেমে গেল।
আমি দুই পা এগিয়ে গিয়ে বুঝলাম, ও আর হাঁটছে না।
আমি ফিরে তাকালাম।
চাঁদের আলোয় ওর চোখদুটো কেমন অদ্ভুত লাগছিল। সেখানে আনন্দও ছিল, আবার অকারণ একটা ভয়ও।
—
"কী হলো?"
আয়াত ধীরে ধীরে আমার সামনে এসে দাঁড়াল।
কয়েক মুহূর্ত শুধু তাকিয়ে রইল।
তারপর খুব আস্তে বলল— "একটা কথা রাখবে?"
আমি হেসে বললাম— "যদি পারি, অবশ্যই।"
ও মাথা নাড়ল। — "না... এই কথাটা 'যদি পারি' দিয়ে বলা যায় না।"
আমি আর কিছু বললাম না।
আয়াত গভীর একটা শ্বাস নিল।
তারপর কাঁপা গলায় বলল— "কখনো আমাকে ছেড়ে
যেও না।"
চারপাশে কোনো শব্দ ছিল না।
শুধু দূরে কোথাও একটা ব্যাঙ ডাকছিল।
আমি বুঝলাম, এই কথাটা ও মুখে আজ বলছে; কিন্তু হয়তো অনেকদিন ধরেই ওর বুকের মধ্যে ছিল।
আমি খুব ধীরে বললাম— "তুমি এত ভয় পাও কেন?"
আয়াত নিচের দিকে তাকাল।
—
"কারণ আমি জানি না ভবিষ্যৎ কেমন হবে।"
একটু থেমে আবার বলল— "তুমি এত বড় বড় স্বপ্ন দেখো।
তুমি একদিন অনেক দূর যাবে। মানুষ তোমাকে চিনবে। তোমার জীবনে অনেক মানুষ
আসবে।"
ওর গলাটা ভারী হয়ে এল।
—
"সেদিন যদি তুমি আমাকে ভুলে যাও?"
আমি ওর কথার মাঝেই আলতো করে বললাম— "খুশি..."
ও মুখ তুলে তাকাল।
আমি ধীরে ধীরে বললাম— "মানুষ সফল হলে নতুন ঠিকানা
পায়। কিন্তু যে মানুষটা সেই ঠিকানায় পৌঁছানোর পথে পাশে হাঁটেছে, তাকে কেউ বদলে ফেলতে পারে না।"
ওর চোখ ভিজে উঠল।
আমি আবার বললাম— "তুমি আমার জীবনের সেই অন্ধকার সময়ে
এসেছো, খুশি। যখন আমি আমার নিজের অস্তিত্বই খুঁজে পাচ্ছিলাম
নাহ্। তুমি জিবনে আসার পর তোমাতেই আমি আমার অস্তিত্ব পেলাম!"
এক ফোঁটা জল গড়িয়ে পড়ল ওর গাল বেয়ে।
ও আর নিজেকে ধরে রাখতে পারল না।
হঠাৎ এক পা এগিয়ে এসে আমাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরল।
এমন শক্ত করে...
যেন এই পৃথিবী যদি এখনই আমাদের আলাদা করতে চায়, তবুও ও ছাড়বে না।
আমি অনুভব করলাম ওর নিঃশ্বাস দ্রুত হয়ে গেছে।
ওর কপাল আমার কাঁধে ঠেকে আছে।
ও খুব আস্তে বলল— "তুমি জানো, আমার পৃথিবী খুব ছোট।"
আমি ফিসফিস করে বললাম— "জানি।"
—
"সেই পৃথিবীর কেন্দ্র তুমি।"
আমি চোখ বন্ধ করলাম।
জীবনে অনেক কথা মানুষ মনে রাখতে পারে না।
কিন্তু কিছু বাক্য হৃদয় নিজের ভেতরে খোদাই করে রাখে।
এটাও তেমনই একটি বাক্য।
আমি ওর মাথায় হাত রেখে শুধু বললাম— "আমারও।"
ও একটু সরে এসে আমার মুখের দিকে তাকাল।
আমি বুঝতে পারছিলাম, এতক্ষণে ও খেয়াল করেছে আমি সত্যিই
খুব ঘেমে গেছি।
ও মৃদু হেসে বলল— "তুমি তো সত্যিই খুব ভয়
পেয়েছিলে।"
আমি হেসে ফেললাম।
—
"খুব।"
—
"এত সাহসী মানুষও ভয় পায়?"
আমি মাথা নাড়লাম।
—
"যাকে হারানোর ভয় থাকে, তার সামনে সবাই
ভয় পায়।"
আয়াত আবার হাসল।
সেই হাসির মধ্যে অদ্ভুত এক নিশ্চিন্ততা ছিল।
মনে হচ্ছিল, এই রাত, এই চাঁদ,
এই ভেজা মাটি—সবকিছু যেন একটু থেমে আমাদের
দেখে নিচ্ছে।
আমরা আবার হাঁটা শুরু করলাম।
দূরে কোথাও ভোরের আগাম পাখির ডাক ভেসে এল।
আমি ঘড়ির দিকে তাকালাম।
সময় আমাদের জন্য অপেক্ষা করেনি।
ফিরে যাওয়ার সময় হয়ে এসেছে।
আর তখনই প্রথমবার মনে হলো—
সবচেয়ে কঠিন পথ কখনো যাওয়ার নয়।
সবচেয়ে কঠিন পথ... ফিরে আসার।
অধ্যায় ছয়
যে বিদায়ে "বিদায়" বলা হয়নি
রাত অনেকটাই গড়িয়ে গেছে।
গ্রামের আকাশে চাঁদটা একটু পশ্চিমে হেলে পড়েছে। বাতাসে ভোরের আভাস
এখনও নেই,
কিন্তু রাতের গভীরতা বদলে গেছে। মনে হচ্ছিল, অন্ধকারও
বুঝে গেছে—তার সময় ফুরিয়ে আসছে।
আমি বাইকের ইঞ্জিন স্টার্ট করলাম।
আয়াত চুপচাপ উঠে বসল।
আজ ও আগের চেয়ে আরও কাছে।
কিন্তু সেই কাছাকাছি থাকার মধ্যেই ছিল বিচ্ছেদের গন্ধ।
আমরা কেউ কথা বলছিলাম না।
শুধু বাইকের হেডলাইট কাঁচা রাস্তার ওপর একটা সরু আলোর রেখা এঁকে এগিয়ে
চলছিল।
মাঝে মাঝে রাস্তার ধারে ঘুমিয়ে থাকা কুকুর আলো দেখে মাথা তুলছিল।
কোথাও বাঁশঝাড়ের ফাঁক দিয়ে চাঁদের আলো পড়ছিল।
কোথাও জমে থাকা বৃষ্টির জলে আমাদের বাইকের আলো কেঁপে উঠছিল।
মনে হচ্ছিল, রাত নিজেই আমাদের পথ মনে রাখছে।
আয়তদের বাড়ির কাছাকাছি পৌঁছে আমি বাইক থামালাম।
এখান থেকে আর এগোনো ঠিক হবে না।
বাড়ির কেউ যদি জেগে থাকে?
যদি কেউ দেখে ফেলে?
আমরা দুজনেই জানতাম, এই কয়েক কদম পথ ওকেই একা হাঁটতে
হবে।
আয়াত ধীরে ধীরে বাইক থেকে নামল।
ওর পা মাটিতে পড়তেই আমার মনে হলো, এই কয়েক সেকেন্ডই যেন
পুরো রাতের সবচেয়ে ভারী সময়।
আমি বললাম— "যাও।"
ও দাঁড়িয়ে রইল।
এক পা-ও এগোল না।
আমি আবার বললাম— "দেরি হয়ে যাচ্ছে।"
ও এবার খুব ধীরে আমার দিকে এগিয়ে এল।
চাঁদের আলোয় ওর চোখদুটো ভিজে উঠেছে।
কাঁদলে যেমন মানুষ শব্দ করে, ও তেমন কাঁদছিল না।
শুধু চোখের কোণ বেয়ে নিঃশব্দে জল গড়িয়ে পড়ছিল।
খুব আস্তে বলল— "আর একটু দাঁড়াও।"
সেই 'আর একটু'-এর মধ্যে
ছিল হাজারটা না বলা কথা।
আমি কিছু বললাম না।
শুধু দাঁড়িয়ে রইলাম।
হঠাৎ আয়াত আবার আমাকে জড়িয়ে ধরল।
এবার আগের চেয়েও শক্ত করে।
আমি অনুভব করলাম, ওর আঙুলগুলো আমার শার্টের কাপড়
আঁকড়ে ধরেছে।
যেন ছেড়ে দিলে আমি হারিয়ে যাব।
অনেকক্ষণ পর ও খুব আস্তে বলল— "আজ বাড়ি গিয়ে
ঘুমোতে পারব না।"
আমি মৃদু হেসে বললাম— "আমিও না।"
ও মাথা নাড়ল।
তারপর এমন একটা কথা বলল, যেটা আজও আমার বুকের
ভেতর প্রতিধ্বনির মতো বাজে— "একদিন যদি আমরা সত্যিই
নিজেদের একটা ঘর বানাতে পারি... সেই ঘরের প্রথম রাতেও আমি আজকের রাতটার কথা মনে
রাখব।"
আমি কোনো উত্তর দিতে পারিনি।
কারণ কিছু প্রতিশ্রুতি মুখে বলা যায় না।
সেগুলো মানুষ নিজের জীবন দিয়ে পূরণ করতে চায়।
আমি শুধু ওর দুই কাঁধে হাত রেখে বললাম— "আমরা
দুজনেই পড়াশোনা শেষ করব। তুমি নিজের পায়ে দাঁড়াবে। আমিও আমার স্বপ্ন পূরণ করব।
তারপর... একদিন এই রাতকে আর লুকিয়ে রাখতে হবে না।"
আয়াত চোখের জল মুছে ছোট্ট করে হাসল।
সেই হাসিটা ক্লান্ত ছিল।
তবু আশায় ভরা।
ও ধীরে ধীরে হাঁটতে শুরু করল।
আমি বাইকে বসে রইলাম।
দশ কদম।
পনেরো কদম।
বিশ কদম।
হঠাৎ ও থেমে গেল।
পিছন ফিরে তাকাল।
আমাদের চোখ আবার একবার মিলল।
কেউ হাত নাড়ল না।
কেউ "ভালো থেকো" বলল না।
কারণ আমরা দুজনেই জানতাম—এই কথাগুলো খুব ছোট।
আমাদের ভালোবাসার জন্য যথেষ্ট নয়।
খুশি আবার হাঁটা শুরু করল।
অন্ধকার গলির ভেতর ঢুকে যাওয়ার আগে শেষবারের মতো ফিরে তাকাল।
তারপর...
সে আর দেখা গেল না।
আমি অনেকক্ষণ বাইকের ওপর বসে রইলাম।
মনে হচ্ছিল, পৃথিবী হঠাৎ খুব ফাঁকা হয়ে গেছে।
হেলমেটটা হাতে নিয়ে বুঝলাম, চোখ ঝাপসা হয়ে এসেছে।
আমি কাঁদছিলাম।
জোরে নয়।
নিঃশব্দে।
যেমন কাঁদে সেই মানুষ, যে কাউকে হারায়নি—তবু তাকে ছেড়ে আসতে হয়েছে।
ইঞ্জিন স্টার্ট করলাম।
ফেরার রাস্তা সেই একই।
কাঁচা পথ।
বাঁশঝাড়।
দীঘি।
ভাঙা বাড়ি।
কিন্তু আশ্চর্য...
আসার সময় যে পথ এত ছোট মনে হয়েছিল, ফেরার সময় সেই
পথ যেন শেষই হচ্ছিল না।
আমি বুঝলাম—
ভালোবাসার সবচেয়ে দীর্ঘ যাত্রা কখনো একসঙ্গে যাওয়ার নয়।
সবচেয়ে দীর্ঘ যাত্রা হলো...
একজনকে তার বাড়ির সামনে রেখে একা ফিরে আসা।
শেষ পৃষ্ঠা______
আজ বহুদিন কেটে গেছে।
জীবন এখনও দৌড়ে চলেছে।
কলেজ আছে।
পড়ানো আছে।
স্বপ্ন আছে।
সংগ্রামও আছে।
আয়াত-ও তার স্বপ্নের দিকে এগিয়ে চলেছে।
আমরা এখনও সেই ভবিষ্যতের জন্য লড়ছি, যেটা একদিন সেই
ভাঙা বাড়ির বারান্দায় বসে এঁকেছিলাম।
কখনও কখনও গভীর রাতে আকাশে পূর্ণিমার চাঁদ উঠলে আমি অকারণ থেমে যাই।
মনে হয়—
এই আলোটা কি সেই রাতের?
হয়তো।
হয়তো না।
কিন্তু একটা কথা আমি নিশ্চিত জানি—
মানুষের জীবনে কিছু রাত কখনো শেষ হয় না।
সেগুলো ক্যালেন্ডার ছেড়ে স্মৃতিতে বাসা বাঁধে।
আমাদের সেই রাতও তেমনই।
আমরা সেদিন কেউ কাউকে "বিদায়" বলিনি।
কারণ বিদায় তো তাদেরই হয়...
যারা আর ফিরে আসার স্বপ্ন দেখে না।
— সমাপ্ত নয়
কারণ কিছু ভালোবাসার শেষ পৃষ্ঠা লেখা হয় না; তারা বেঁচে থাকে মানুষের প্রতিদিনের সংগ্রামে, অপেক্ষায়,
আর একসঙ্গে গড়ে তোলা ভবিষ্যতের স্বপ্নে।
