আমাকে নিয়ে একটা কবিতা
- আজিজুল হাকিম
তুমি বলেছিলে,
"আমাকে নিয়ে একটা কবিতা লিখবেন?
কেবল একটি মাত্র কবিতা;
যে কবিতায় পদ্মার অবাধ খেয়ালিপনা,
উচ্ছ্বাসিত ঢেও
আমার দেহে ফুটে উঠবে।
বর্ষার ভরা পদ্মার মতই
উদ্ভাসিত হবে আমার চোখে মুখে বিধ্বংসী রাগ—
উন্মাদনাময় যৌবনের বাঁধভাঙ্গা জোয়ার।
লিখবেন, একটা কবিতা?"
আকুতি ভরা কন্ঠে তুমি বলেছিলে,
"লিখুন না, এমন একটি কবিতা —
কলমের ডগা থেকে নিঃসৃত
কলো কদাকার কালিকে
মনের হাজারো রঙের তুলি দিয়ে
হাজারো আলপনায়,
আপনার কবির কল্পনায়
আমাকে রাঙিয়ে তুলুন —
সাঁটিয়ে দিন দিগন্তের পটে।
পারবেন না,
এমন একটি কবিতা?"
তুমি বলেছিলে,
"আপনি অবশ্যই লিখতে পারবেন।
বসন্ত বা গ্রীষ্মের পুর্নিমার রাতে
পদ্মার উন্মুক্ত বুকে
বালুকাময় অস্বর্গীয় রূপোলী চরাচরে
রূপোলী জ্যোৎস্নার চন্দন ধারায়
অপনি আর আমি মুখোমুখী —
বহুদূরের পলাশবন থেকে
ভেসে আসে
কাদের মাদল উল্লাস;
পলাশের নেশা আপনার মনে
আর আমার বুকে
অরণ্যের অগ্নিশিখা
চায় — হুহু বাতাস।
পদ্মার নীল জলে
জ্বলে-নিভে অসংখ্য তারার প্রদীপ
ছোটছোট ঢেউয়ের মাথায়
চাঁদ হেসে হেসে নেচে বেড়ায়
অপন ছন্দে, খেয়ালিপনায়
জলের বুকে আকাশ পেতে দেয় বুক।
মাছেদের খেলায়
আর রাতচরা পাখিদের চিৎকারে
নিস্তব্ধতা ভাঙ্গে যায় — খানখান।
অনৈসর্গিক রূপকথার দেশের পরীর মতই আমি
বহুদূর হতে ভেসে আসে অতন্দ্রিত মাঝির গান,
“সখীরে, আমি প্রেমের ঘাটের মাঝি......।”
কুঁচকানো শাড়ির শৈল্পিক ছন্দে
কাব্যিক তাল-লয়ে আমি হেঁটে যাব আপনার দিকে
আমাদের চোখে লেগে থাকবে
অসংখ্য বিদ্যুতের নীরব ঝলক।
এমন সময়,
হঠাৎ কালবৈশাখী ঝড়
আছড়ে পড়বে সারা বালুচর।
উড়ে যাবে আমার অবাধ্য, অবিন্যস্ত চুল
খসে পড়বে শাড়ির আঁচল —
লেপটে থাকবে আপনার মুখের ওপর।
ত্তারপর,
তারপর আপনি আর আমি মুখোমুখি —
দূর বনে শোনা যাবে কালবৈশাখীর সর্বগ্রাসী গর্জন
মেঘের উর্ণায় ঢেকে যাবে পূর্ণিমার চাঁদ।
লিখুন না, আমাকে নিয়ে
এমন একটি কবিতা।
শরতের পড়ন্ত বেলায়
খসে পড়া শিমূল তুলোর মতই
শুভ্র শুভ্র ছিন্ন মেঘেদের দল
সুনীল আকাশের বুকে মেলেছে ডানা,
আর গায়ে সোনালী রোদ মেখে
সারসের ঝাঁক
তীরের ফলার মতই
দিগন্তের পানে দিয়েছে পাড়ি
আপনি আর আমি একেলা
ভাসমান একখানি ছোট্ট তরী
বুকের ওপর উথলে উঠে আহ্লাদের ঢেউ
দেখবেনা তো কেউ।
দমকা বাতাসে আমার যত সব আলুথালু চুল
আর সারা পাড় জুড়ে হাতছানি দিয়ে যাবে
সুভ্র সুভ্র কাশফুল।
কেবল একটা মাত্র কবিতা,
কেবল আমাকে নিয়ে.........
লিখুন না, প্লীজ!"
- আজিজুল হাকিম
তুমি বলেছিলে,
"আমাকে নিয়ে একটা কবিতা লিখবেন?
কেবল একটি মাত্র কবিতা;
যে কবিতায় পদ্মার অবাধ খেয়ালিপনা,
উচ্ছ্বাসিত ঢেও
আমার দেহে ফুটে উঠবে।
বর্ষার ভরা পদ্মার মতই
উদ্ভাসিত হবে আমার চোখে মুখে বিধ্বংসী রাগ—
উন্মাদনাময় যৌবনের বাঁধভাঙ্গা জোয়ার।
লিখবেন, একটা কবিতা?"
আকুতি ভরা কন্ঠে তুমি বলেছিলে,
"লিখুন না, এমন একটি কবিতা —
কলমের ডগা থেকে নিঃসৃত
কলো কদাকার কালিকে
মনের হাজারো রঙের তুলি দিয়ে
হাজারো আলপনায়,
আপনার কবির কল্পনায়
আমাকে রাঙিয়ে তুলুন —
সাঁটিয়ে দিন দিগন্তের পটে।
পারবেন না,
এমন একটি কবিতা?"
তুমি বলেছিলে,
"আপনি অবশ্যই লিখতে পারবেন।
বসন্ত বা গ্রীষ্মের পুর্নিমার রাতে
পদ্মার উন্মুক্ত বুকে
বালুকাময় অস্বর্গীয় রূপোলী চরাচরে
রূপোলী জ্যোৎস্নার চন্দন ধারায়
অপনি আর আমি মুখোমুখী —
বহুদূরের পলাশবন থেকে
ভেসে আসে
কাদের মাদল উল্লাস;
পলাশের নেশা আপনার মনে
আর আমার বুকে
অরণ্যের অগ্নিশিখা
চায় — হুহু বাতাস।
পদ্মার নীল জলে
জ্বলে-নিভে অসংখ্য তারার প্রদীপ
ছোটছোট ঢেউয়ের মাথায়
চাঁদ হেসে হেসে নেচে বেড়ায়
অপন ছন্দে, খেয়ালিপনায়
জলের বুকে আকাশ পেতে দেয় বুক।
মাছেদের খেলায়
আর রাতচরা পাখিদের চিৎকারে
নিস্তব্ধতা ভাঙ্গে যায় — খানখান।
অনৈসর্গিক রূপকথার দেশের পরীর মতই আমি
বহুদূর হতে ভেসে আসে অতন্দ্রিত মাঝির গান,
“সখীরে, আমি প্রেমের ঘাটের মাঝি......।”
কুঁচকানো শাড়ির শৈল্পিক ছন্দে
কাব্যিক তাল-লয়ে আমি হেঁটে যাব আপনার দিকে
আমাদের চোখে লেগে থাকবে
অসংখ্য বিদ্যুতের নীরব ঝলক।
এমন সময়,
হঠাৎ কালবৈশাখী ঝড়
আছড়ে পড়বে সারা বালুচর।
উড়ে যাবে আমার অবাধ্য, অবিন্যস্ত চুল
খসে পড়বে শাড়ির আঁচল —
লেপটে থাকবে আপনার মুখের ওপর।
ত্তারপর,
তারপর আপনি আর আমি মুখোমুখি —
দূর বনে শোনা যাবে কালবৈশাখীর সর্বগ্রাসী গর্জন
মেঘের উর্ণায় ঢেকে যাবে পূর্ণিমার চাঁদ।
লিখুন না, আমাকে নিয়ে
এমন একটি কবিতা।
শরতের পড়ন্ত বেলায়
খসে পড়া শিমূল তুলোর মতই
শুভ্র শুভ্র ছিন্ন মেঘেদের দল
সুনীল আকাশের বুকে মেলেছে ডানা,
আর গায়ে সোনালী রোদ মেখে
সারসের ঝাঁক
তীরের ফলার মতই
দিগন্তের পানে দিয়েছে পাড়ি
আপনি আর আমি একেলা
ভাসমান একখানি ছোট্ট তরী
বুকের ওপর উথলে উঠে আহ্লাদের ঢেউ
দেখবেনা তো কেউ।
দমকা বাতাসে আমার যত সব আলুথালু চুল
আর সারা পাড় জুড়ে হাতছানি দিয়ে যাবে
সুভ্র সুভ্র কাশফুল।
কেবল একটা মাত্র কবিতা,
কেবল আমাকে নিয়ে.........
লিখুন না, প্লীজ!"
