এখানে আসেনি কেউ
— তামান্না সুলতানা তুলি
কতদিন যাইনি কারো কাছে, ছুঁইনি সুন্দর
কতদিন মাখিনি আরাম, শুনিনি গান, দেখিনি ফুল
আকাশের তারা জ্বলে জ্বলে কোথায় ফুটেছে লুব্ধক ফুল
কোথায় জ্বলেছে বিশাখার দহন,
নেমেছে স্বাতী নক্ষত্রের ছায়া,
সমুদ্দুরে নেমেছে কেমন পতন
দেখিনি সে অবোধ সুন্দর, কাঁটা মুকুটের শোভা
হরিদ্রা রংয়ে সোনালুর বিভা,
আঁচল থেকে খসে পড়া বয়সী দুপুর,
সুখ সুখ কলাবতীর ব্রীড়া
কতদিন যেতে যেতে ফিরে আসা
সুন্দর নিজেই সে হ্যামিলিনের বাঁশিওয়ালা
সুন্দর নিজেই সে স্বয়ম্ভু সর্বনাশ
সুন্দর নিজেই সে পলায়নপর পদশব্দ-
ধাবমান সময়কে ছুঁতে চেয়ে নির্বাক ফিরে আসা
এখানে আসেনি কেউ, বলেনি কথা
নৈঃশব্দ ছুঁয়ে-ছেনে মুখরতায় বলেনি কথা
গোলাপ, অমৃত সঞ্চারি ঘ্রাণ আমার সুন্দর প্রকোষ্ঠে
ফুটে থেকেছে নির্জনে
অচেনা লিরিকে বেজে গেছে অবিশ্রাম বাঁশি
সোহাগী সুরে লাগেনি আলাপের দরবারী কানারা
মীরার ভজন শুনিনি, গুমড়ে গুমড়ে ওঠা কাফির গমকে
শুনিনি মন উদাস করা কান্না
কতদিন দেখি না প্রিয় মুখ, মুখের কারুকার্যে আদর, সুদূরের সে গভীর চোখে ঝলমলে দীপ্তি
হাসি ছুঁয়ে নেমে আসা তরল জল-
সুন্দর নিজেই সে অশেষ বিস্ময়
সুন্দর নিজেই সে অশেষ ঘোর
সুন্দর নিজেই সে প্রিয় মুখ
সুন্দর সে ভালোবাসা
সমুদ্রে যাচ্ছে কেউ, রক মিউজিকে দুলে উঠছে শরীর
চুমুকে শুষে নিচ্ছে প্রাণের আরাম
মীরার ভজন শুনছে কেউ, কান্নার সেতার
উন্মীলিত গোলাপের ঝরে পড়ার দুঃখ
কান্নার মতো প্রগাঢ় ছায়ায় গুনছে নক্ষত্র
কেউ শুনছে সে সুরের ভেতর মর্মাহত ঘ্রাণের বিলাপ
কেউ ছুঁইছে সুন্দর, দেখছে প্রিয় মুখ
সর্বনাশের মতো খুনের অভিলাষে মাখছে ভালোবাসা!
কতদিন যাইনি এলোমেলো ভাঙচুরে-
অপেক্ষার সুরেলা সিম্ফনি শুনিনি
এক আকাশ নক্ষত্র গুনে গুনে হাতে উঠে এসেছে
অশেষ সে সুন্দর-
এমন নিস্পৃহ ভালোবাসা।
